শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

Love Story We were both young when I first saw you I close my eyes and the flashback starts

We were both young when I first saw you
I close my eyes and the flashback starts
I'm standing there on a balcony in summer air

See the lights, see the party, the ball gowns
See you make your way through the crowd
And say hello

Little did I know
That you were Romeo, you were throwing pebbles
And my daddy said, "Stay away from Juliet"
And I was crying on the staircase
Begging you, please, don't go

And I said,
"Romeo, take me somewhere we can be alone
I'll be waiting, all that's left to do is run
You'll be the prince and I'll be the princess
It's a love story, baby just say yes

So I sneak out to the garden to see you
We keep quiet 'cause we're dead if they knew
So close your eyes, escape this town for a little while
'Cause you were Romeo, I was a scarlet letter
And my daddy said "Stay away from Juliet"
But you were everything to me, I was begging you, please, don't go

And I said Romeo take me somewhere we can be alone 
I'll be waiting, all there's left to do is run
You'll be the prince and I'll be the princess 
It's a love story baby just say yes 


Romeo save me, they're trying to tell me how to feel
This love is difficult, but it's real
Don't be afraid, we'll make it out of this mess
It's a love story, baby just say "Yes"

Oh, oh

I got tired of waiting
Wondering if you were ever coming around
My faith in you was fading
When I met you on the outskirts of town

And I said
"Romeo save me, I've been feeling so alone
I keep waiting for you but you never come
Is this in my head? I don't know what to think"

He knelt to the ground and pulled out a ring and said
"Marry me, Juliet, you'll never have to be alone
I love you and that's all I really know
I talked to your dad, go pick out a white dress
It's a love story, baby just say yes"

Oh, oh, 
Oh, oh

'Cause we were both young when I first saw you.

Forever In Love leads to laughter Love leads to pain With you by my side

Forever In Love


Love leads to laughter
Love leads to pain
With you by my side
I feel good times again



Never have I felt these feelings before
You showed me the world
How could I ask for more

And although there's confusion
We'll find a solution to keep my heart close to you

And I know, yes I know
If you hold me, believe me
I'll never, never ever leave

And I know
There is nothing that I would not do for you
Forever be true
And I know
Although times can be hard
We will see it through
I'm forever in love with you

Show me affection
In all different ways
Give you my heart
For the rest of my days

With you all my troubles are left far behind
Like heaven on earth
When I look in your eyes

And although there's confusion
We'll find a solution
To keep my heart close to you

And I know, yes I know
If you hold me, believe me
I'll never, never ever leave

And I know
There is nothing that I would not do for you
Forever be true
And I know
Although times can be hard
We will see it through
I'm forever in love with you

No need to cry
I'll be right by your side
(Right by your side)

Let's take our time
Love won't run dry
If you hold me, believe me
I'll never, never ever leave

And I know
There is nothing that I would not do for you
Forever be true
And I know
Although times can be hard
We will see it through
I'm forever in love
And I know
There is nothing that I would not do for you

Forever be true
And I know

Oh I know
Although times can be hard
We will see it through
I'm forever in love with you

শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

Sorry স্বপ্নের রাজকন্যা H......

রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৭

বন্ধুত্বের কোনো দিবস হয় না..!! প্রতিটি দিনই বন্ধু দিবস.

বন্ধুত্বের কোনো দিবস হয় না..!!
প্রতিটি দিনই বন্ধু দিবস..!!
বন্ধুত্ব সেটা নয় যেটায় স্বার্থ থাকে। বন্ধুত্ব সেটাই যেটায় কোনো স্বার্থ থাকে না। বন্ধুত্বে তর আমার বলে কিছু নেই,যেটা তর সেটাও আমার যেটা আমার সেটাও তর এটাই বন্ধুত্ব।
কেউ যদি আমায় জিজ্ঞেস করে আমার কাছে সব থেকে মুল্যবান জিনিস কি, তাহলে আমি নির্ধিদায় বলতে পারি সেটা বন্ধুত্ব।
বন্ধুত্বের মতো পবিত্র বন্ধন আর একটাও হতে পারে না।কেননা বন্ধুত্ব তো দুটি দেহে একটি প্রাণ। ভিন্ন ভিন্ন মায়ের পেটের একি আত্মার দুই ভাই। বন্ধু না থাকলে দুনিয়াটা যে এতো সুন্দর হয়তো কখনো জানা হতো না। বন্ধু না থাকলে হয়ত প্রান খুলে হাসা হতো না। বন্ধু না থাকলে হয়তো মনের কষ্টের কথা কখনো কাউকে খুলে বলা হতো না।
বন্ধুরা এমনি যারা কখনো মন খারাপ থাকতে দেয় না। বন্ধুরা এমনি যারা কখনো মাঝ রাস্থায় একা ছাড়ে না। বন্ধুরা এমনি দুনিয়ার সবাই অবিশ্বাস করলেও এরা কখনোই অবিশ্বাস করেনা। তুমি কারো কাছে ইম্পর্ট্যান্ট নাও হতে পারো, কিন্তু,তোমার বন্ধুদের কাছে তোমার ইম্পর্ট্যান্ট অনেক বেশি।
বন্ধুরা আছে বলেই হয়ত এখনো প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি। আমাদের সবার বন্ধুত্ব গুলা যুগ যুগ ধরে বেচেঁ থাকুক।

বন্ধুত্ব কোনো জাতি ধর্ম বর্ণ দেখে হয় না,
বন্ধুত্ব হয় আত্মার সাথে আত্মার মিলে।
বন্ধু সে নয় যে মন খারাপে শান্তনা দেয়,
বন্ধু সেই যে মন খারাপেও হাসতে বাধ্য করে।

শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০১৭

আমি আলো অন্ধকার ।। নির্বাচিত ২৫ কবিতা

রাত্রিগান
০১
পুনর্ভবা রাত্রি, যদি জেগে আছ, কেড়ো না স্বপ্নের শেষ ছবি
কেড়ো না অন্তিম হাসি, দূরের নক্ষত্র থেকে ঝরে পড়ে কণা-
মাত্র আলো, কেড়ো না চৈত্রের ঝড়ে ঠোঁটে-ধরা সামান্য খড়কুটো
ইশারার ক্ষীণ আভা স্পর্শ ক’রে যেতে হবে অনিশ্চিন্দিপুর
রক্তাক্ত সিঁড়ির বুকে থিরিথিরি অন্ধকারে নেমে গেছে পথ
তুমুল হাতছানি যদি বেজে ওঠে স্থবিরের দিকশূন্য ঘুমে
কাঠুরিয়া হবে মন ঢুকে পড়বে অরণ্যের স্তর থেকে স্তরে
কুঠার যেখানে স্তব্ধ, সবুজ সন্ত্রাসে মত্ত বৃক্ষের সাঁজোয়া
দরোজা, থেকো না বন্ধ, খুলে দাও অন্তহীন সমস্ত প্রস্তাব
ওপারে আকাশ আর পৃথিবীর অনর্গল আশ্চর্য প্রতিভা
যদি আছ নিদ্রাহীন, ধরো হাত, ফেলে দাও কৃপণ লন্ঠন
অন্ধের তরঙ্গে চলো ঝাঁপ দিই দুর্নিবার – স্বপ্ন যদি শেষ …
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০২
তোমার প্রাণের কাছে যাব বলে ওগো রাত্রি, যে-ভাষা খুঁজেছি
কখনও পেয়েছি তার চকিত প্রলাপ আর কখনও বা ঘুমে
পিছল সিঁড়ির পথে হারিয়ে ফেলেছি তার একমাত্র মুখ
ভাঙাচোরা আলো নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি তবু বৃষ্টিভেজা পথে
দেখেছি সুন্দর তুমি আমাকেও তিলে তিলে করেছ সুন্দর
সে-সৌন্দর্যভার তবে কীভাবে বহন করব শেখালে না কেন
করতলে তুলে নেব অবলুপ্ত সভ্যতার মৃৎপাত্রগুলি
তুমি মদ ঢেলে দিলে কীভাবে তা পান করব প্রাচীন শতকে
এত যে দিয়েছ তবু কেন বলো বারংবার শূন্য হয়ে যাই
ভেঙে ফেলি মূর্তি আর ভেঙে পড়ি অশ্রুহীন জন্মান্ধ কান্নায়
কেবলই হারাই পথ, হেঁটে মরি হিজিবিজি বিপন্ন ধাঁধায়
তোমার প্রাণের কাছে যাব বলে, ওগো রাত্রি, তবু জেগে থাকি
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৩
পৃথিবী হয়েছে স্তব্ধ, এবার পাঠাও দ্রুত তোমার সংকেত
রাত্রির পোশাকে ডুবে চুপিচুপি নেমে আসি প্রাচীরের কাছে
নীরবে প্রস্তুত করি ছেনি ও হাতুড়ি, আর নির্মম আঘাতে
গড়ে তুলি অল্পে অল্পে সুরঙ্গের দীপ্ত মুখ নিভৃত দ্যোতনা
আমি নৈশ কারিগর, প্রকাশ্য আলোয় হাঁটি ভিড়ের গভীরে
গূঢ় অভিসন্ধিগুলি যথাসাধ্য ঢেকে রাখি হাসির আড়ালে
মর্মের গোপন ক্ষত যদিও অস্থির করে কামড়ে কামড়ে
তবু নিই বাতাসের তোমাকে জড়িয়ে থাকা শ্বাসরোধী ঘ্রাণ
তারপর তারা ফোটে, শুরু হয় গাছেদের সুপ্ত কানাকানি
দু’চোখে জড়ায় তন্দ্রা, মাঝে মাঝে টলে পড়ি মাতৃহারা ঘুমে
আবার দাঁড়াই উঠে, পায়চারি করি, আর স্নায়ুর গভীরে
কান পেতে রাখি, শুনি, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে এল তোমার ইশারা
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৪
জানালায় কেঁপে ওঠে পাণ্ডু রাত চক্ষুহীন নিঃস্বতার ছায়া
ও-প্রেত আমার, তাকে কোন্‌ ভাঙনের পথে দেব বিসর্জন
নক্ষত্র গিয়েছে সরে দিনে দিনে তাকে আর ফেরাতে পারি না
তবুও দু’হাত ভরে ছুঁতে যাই অন্ধকার শারদ মনীষা
পারি না, ঘুমিয়ে পড়ি, শ্লথ আলো নেমে আসে বিপন্ন রাত্রির
দেখি নদী, দেখি ধান, কাশের দিগন্তে মোড়া চন্দ্রকেতুগড়
যা ছিল অতীত লুপ্ত বৃষ্টিধোয়া পাথরফলকে লেখা নাম
দেখি তারা জেগে উঠে ভোরের আলোর মতো আদরে জড়ায়
তবু এ-আঙুল, ভাবি, আঙুরলতার মতো পড়ুক ছড়িয়ে
শূন্যতাকে মুছে দিক দ্রাক্ষারসে, ইতিহাস পুনর্লিখনের
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৫
যদি দিলে প্রাণ আর কানে কানে দুর্নিবার ভ্রমণ শেখালে
বোলো না হে পথ তবে ফিরে যেতে স্মৃতিহীন অস্পষ্ট তন্দ্রায়
বরং ফেরার সেতু ভেঙে ফেলি, পালাবার সমস্ত সড়ক
মুছে ফেলি একে একে, তারপর মুখোমুখি দাঁড়াই স্বপ্নের
হয়তো চোখ ঝলসে যাবে, গৃহযুদ্ধে খসে যাবে বিবর্ণ পতাকা
হয়তো সে-রূপ আমি সহ্য করতে না-পেরে চিৎকার করব শেষে
তবুও ফিরব না আজ, ওগো রাত্রি, হেঁটে যাব আগুন মাড়িয়ে
চলতে চলতে জ্বলে উঠব, অন্ধকারে মেলে ধরব হাড়ের মশাল
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৬
মুছো না এ-অন্ধছবি, কানে কানে বলে যাওয়া নিঃশব্দ হরফ
কেড়ো না এ-জন্মরথ, বসন্তের ভিক্ষুকের ক্ষণিক পতাকা
ভেঙে না এ-রাত্রিগান, গলন্ত মোমবাতি, হাওয়া, কাঁপা উচ্চারণ
ছিঁড়ো না অদৃশ্য রজ্জু, নদীর নির্জন বাঁকে লুকানো তরণী
বাতাস উধাও আজ, ঢেউ দাও, কেঁপে ওঠো তরঙ্গ অপার
ফেনায় ফেনায় নাচো, ফুলে ওঠো, ধুয়ে দাও মজ্জার মরিচা
এ-নৈশপ্রলাপটুকু তুলে রাখো, গায়ে তার এঁকে দাও ডানা
উড়ে যাক্‌ ক্ষণমাত্র – যতদূর আশ্বিনের শান্ত ছায়াপথ
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
বৃক্ষতম
০১
সমস্ত বৃক্ষের মর্মে চিরদিন তোমাকে খুঁজেছি বৃক্ষতম
সমস্ত মেঘের পুঞ্জে তোমাকেই, বৃষ্টিঘোর প্রার্থনার মেঘ
সমস্ত নদীর গর্ভে তুমি স্বচ্ছ উতরোল সমুদ্রসংকেত
রাত্রির আড়ালে রাত্রি তুমি মহানিশীথের অলঙ্ঘ্য ব্যঞ্জনা
পথের জটিল লাস্য ছুঁয়ে দেখি তুমি দূর ছায়াপথিকের
আলোর গভীরে তুমি অন্ধকার হরিণের জ্বলে ওঠা চোখ
চিরবিষাদের রক্তে বেড়ে ওঠ তুমি তীব্র সুরকাতরতা
তুমিই চূড়ান্ত হর্ষ অফুরন্ত থরো থরো সিঁড়ির কিনারে
বাক্যের ইঙ্গিতগুলি নিভে এলে জ্বলে ওঠে তোমার ইশারা
সব অগ্নি তুচ্ছ, তুমি ক্ষমাহীন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দাবানল
সমস্ত জাগর দৃশ্যে তোমাকেই খুঁজে গেছি চিরজাগরণ
ঘুম শেষ হ’লে তুমি নিয়ে চলো অন্তিমের আরও গাঢ় ঘুমে
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০২
তুমি তো তরল নও, তবু দেখি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মদ তুমি
যত পান করি তত অগ্নিভারে দাউ দাউ জ্বলে ওঠে স্নায়ু
শ্বেতাশ্ব ছুটেছে তীব্র মেঘে মেঘে আমি তার নির্মম সওয়ার
অস্ত্রের ঝিলিকে ভেঙে টুকরো হয়ে ঝ’রে যায় বধির আকাশ
কোন যুদ্ধে যেতে হবে বলো তবে, মর্মরিত রক্তের নিশান
হাওয়ায় দুলেছে, আর অন্তহীন মেরুদাঁড়া হয়েছে মাস্তুল
ভেসেছে নাবিক, ঘোর ঊর্মির রহস্যে ঢাকা দ্বীপান্তর তুমি
লবণের ঘন গন্ধে রাত্রি-ফসফরাসে হাসে মায়াবী দু’চোখ
নিয়ে এসো নাস্তাপানি, আজ আমি হলায়ুধ অদম্য কৃষাণ
অশ্রুতে করেছি নম্র এঁটেলের বজ্রটান, ধূলিস্নানে মজে
এবার ছড়াব বীজ কীর্তনের বাউলের, আউলা হয়ে নাচে
মেতে উঠব তালে তালে শিস দেবে এ-বাংলার রঙ্গিলা পাখিরা
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৩
ডুবুরির মতো আমি নেমে যাই জলের সুরঙ্গ খুঁড়ে খুঁড়ে
শিরস্ত্রাণ থেকে আলো ঠিকরে প’ড়ে ছিঁড়ে যায় পাথরের পথ
জলও কঠিন জেন’ – দুর্বিনীত, অভিশপ্ত, ঘন অন্ধকার
কেবলই দোলায় আর টান মারে মৃত নক্ষত্রের কালো বুকে
দিই ঝাঁপ প্রতি রাত্রে, কটিবন্ধে বাঁধা আছে অদৃশ্য রজ্জুর
সোনালি চুম্বকরেখা, অন্যপ্রান্তে কেউ কেবলই পাঠায় বার্তা –
তুলে আনো তুলে আনো মুঠো ভরে, ওগো প্রিয় ডুবুরি আমার
জলজ গাছের চারা, মাছের কঙ্কাল স্পঞ্জ কড়ি শঙ্খ নুড়ি
হয়তো সাজাব ঘর কোনওদিন ভাঙা কোনও জাহাজের বুকে
হয়তো হারিয়ে যাব নীল স্রোতে লবণের গভীর দ্রবণে
আজ শুধু নাচে ঢেউ, রুপোলি আঁশের মতো জ্বলে ওঠে চাঁদ
আর কোনও শ্রান্তি নেই ক্ষান্তি নেই, শুধু তুমি, সমুদ্র অপার
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৪
কুড়িয়ে এনেছি আজ ভাঙা ব্যাঞ্জো আশ্বিনের বর্জ্যস্তূপ থেকে
ডুবসাঁতারের ছলে যে কেবল তারাখসা জলের পাতালে
ঘুমিয়ে পড়েছে আর পৃথিবীর দৃষ্টিহীন কক্ষপথ ছিঁড়ে
কেবলই গিয়েছে সরে একা একা কল্পনার চিরনির্বাসনে
ধাতুর কঙ্কাল ঘিরে সবুজ চকমকি যেন উদ্ভিদের ক্ষুধা
তুচ্ছতম শরীরের গোপন বার্তার মতো, অসহ্য সংকেত
বয়ে যেত দিগন্তের পারাপারহীন কোনও পোড়ো আস্তাবলে
আর সেই উতরোল স্বপ্নের ঝটিকাকেন্দ্রে তুমি বসে একা
ঝংকার তুলেছ তারে, ধমনীর মহান প্লাবনে ভেসে ভেসে
ছড়িয়ে পড়েছে সুর সপ্তডিঙা নাবিকের ঘুমন্ত বন্দরে
সেই মহানিদ্রাঘোর রাক্ষসের কানে কানে আজ গিয়ে বলি
সময় হয়েছে দ্যাখো, মাতৃভাষা ফুটে ওঠে পাথরের ঠোঁটে
উঠে আসে রাঙা ব্যাঞ্জো ক্ষতস্থানে আজও উষ্ণ রক্তের প্রলেপ
জঠরের সাতপাকে হাসে অগ্নি, মহাকাল ছুঁয়ে আছে মুঠি
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৫
আমাকে প্রশ্রয় দাও হে তমসা, অনিঃশ্বাস কবরের ঘোরে
শৃঙ্খলে বেঁধেছি আত্মা, অভিশপ্ত জাদুকর যেন ভুলে গেছে
সমাধিগহ্বর থেকে ধীর পায়ে উঠে আসতে গুপ্ত সিঁড়ি বেয়ে
মঞ্চের অশ্রাব্য আলো করতালি তাকে জেন’ ফেরাতে পারে নি
চোখের তারায় আজ ঝুঁকে পড়ে দ্যাখ’ যদি সহসা ঘূর্ণন
ভ্রূকুটিতে দ্যাখ’ মেঘ আঙুলের ভাঁজে দ্যাখ’ গোপন টঙ্কার
যদি দ্যাখ’ বাহুমূল দিগন্ত-আঁধার থেকে সমূহ উদ্যত
যদি ওষ্ঠ নড়ে উঠে ভিক্ষুকের মতো চায় করুণ চুম্বন
বোলো না সংযত হতে হে তমসা, খরজ্যৈষ্ঠে মায়ার কাজল
বিগত জন্মের মতো নিষ্ঠুর হয়ো না আর ফিরিয়ো না চোখ
সিন্ধুরোল ভেঙে যদি দ্বীপান্তরে ভেসে এলে গোধূলি মান্দাস
শ্যামল আভায় তবে তুলে নাও ছিন্নমূল কররেখাগুলি
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৬
দু’হাতে প্রাচীর গাঁথি এসো আজ হৃদয়ের অন্ধকূপ ঘিরে
পাথরে ঢেকে দি’ চোখ, শ্বাসবায়ু, অতলান্তে পড়ে থাকা জল
যাতে কোনও আচম্বিত ঢেউ এসে ফণা তুলতে না-পারে কখনও
যাতে মহাশূন্য থেকে ভেসে আসা আর্ত কোনও নক্ষত্র-ইশারা
তোলপাড় না-তোলে এই শ্বাসরুদ্ধ মনীষার দুর্বল সঞ্চয়ে
এসো আজ মুছে দিই ধমনীর চিত্রপট, রঙের পিপাসা
মুছে দি’ লবণপথ, বনরাজি, শ্রাবণের মেঘে মেঘে ফেরা
মুছি বাক্য, যতিচিহ্ন, হরফের ধ্বনিহীন আর্ত হাহাকার
মুছি প্রণামের ডানা, করতল, থরো থরো ঠোঁটের বিভাষা
নিজেকেই মুছি যেন অনুলেখা কবরের পাথর ফলকে
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
আমি
০১
আমিও বিভক্ত জেনো, খণ্ডে খণ্ডে বিকিরিত নানা টুকরো হয়ে
যেন কেউ প্রতিবেশী, জানালা টপকালে কারও ভাঙাচোরা মুখ
কেউ অর্ধপরিচিত, কেউ বন্ধু মেঘে মেঘে অস্পষ্ট বৃষ্টিতে
কেউ অনাবাসী দূর সিন্ধুতীরে স্বেচ্ছানির্বাসিত, ভাষাহীন
মুখচ্ছবিহীন তার হাঁটাচলা, রাত্রি ঘিরে হাঁটু মুড়ে বসা
উদ্ধত গর্জন আর সহসা কান্নায় ভেঙে পড়া গানগুলি
চিরঅচেনার মতো থেকে যায় রক্তঢেউ স্মৃতির ওপারে
তবুও রয়েছে তারা, রয়েছে কথোপকথনের চাপা স্বর
কত না আকুতি, জেদ, পরামর্শ, প্রার্থনার বিষণ্ন সোপান
কাঁধে হাত রেখে চলা, ছুঁড়ে ফেলা, ঘৃণায় লজ্জায় প্রতিশোধে
কত চিহ্ন বিনিময় ধ্যানে জ্ঞানে অগোচর ব্যর্থতা উল্লাসে
স্তরে স্তরে পুঞ্জে পুঞ্জে বিভক্তি প্রত্যয়ে গাঁথা নকশিকাঁথা জুড়ে
অজস্র হারায় তার চৈত্রঝড়ে করতলশিথিলতা বেয়ে
হয়ত সামান্য মাত্র কেঁপে ওঠে অভ্রখচা সুবর্ণরেখায়
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০২
নিজেকে বুঝি না, তাই বোঝাতে পারি না এই পথের তমসা
কেন যে খনির মর্মে জ্বলে ওঠে অশ্রুদীপ, নিভে যায় কেন
আঁধার সুরঙ্গ বেয়ে ছুটে আসে ঘনঘোর জলের চেতনা
দোলায় ভাসায় নাচে টান দেয় পাকে পাকে মৃত্যুর ইশারা
ব্যবহার-বিধি, সভা, ভাষার মরিচা নিয়ে মত্ত জনপদ
ছুটে আসে পিছু পিছু ছুঁড়ে দেয় জাল, দড়ি – যেন মহাত্রাতা
আমি সে-জীবনরেখা ছুঁতেও পারি না, শুধু প্রাণপণে দেখি
জনপদ শেষে হ’লে এখনও আকাশে কাঁপে রক্তমাখা চাঁদ
ভয় করে! প্রতিটি সঞ্চিত পাপ একে একে খুবলে নেবে চোখ
ছিঁড়ে ফেলবে জিহ্বা-ওষ্ঠ দন্তরুচি, খসে পড়বে লিঙ্গ অণ্ডকোষ
তবু কি দুর্বৃত্ত পথ স্পষ্ট হবে, ফুটে উঠবে সোপান সারণি?
মহাপ্রলয়ের দিন তবু কি জানাবে প্রচলিত লোকগীতি?
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৩
কেন যে হারাই চোখ, দিগন্তকে স্পর্শ করা মুঠির ইশারা
গাছের পাতার মীড়ে ডুবে যাওয়া ছায়াভিক্ষুকের কাতরতা
চাঁদের ত্বকের মতো অতল গহ্বর থেকে ভেসে আসা ডাকে
কেন যে বধির মর্মে পারি না প্রস্ফুট করতে আগুনের ফোঁড়
কেন রাত্রিস্তব্ধতার বেদীমূলে ছিন্ন করতর্জনীর শোকে
কেবলই তন্দ্রার দিকে ঢলে যাই, তবু স্বপ্নপাতালের ছবি
তবু পথ – দিগ্বিদিকে ছুটে যাওয়া ধিকিধিকি পুঞ্জ পুঞ্জ পথ
ভ্রূ থেকে কেন যে ঝরে, যেন জ্বরতপ্ত জলপটি, স্মৃতিহীন
কেন যে ঝরনার শব্দ মুছে আসে ধমনীর অতল প্রবাহে
পাথরের গর্ভমুখে কান রাখি : রয়েছে কি গোপন কম্পাস
আছে কি মানচিত্র, তবে আনো দেখি দড়িদড়া গাঁইতি ও শাবল
আনো মেরুচূড়া, আনো সিঁড়িতে সিঁড়িতে গাঁথা সুরঙ্গের ডানা
তবে কি প্রার্থনাভঙ্গি ফিরে আসে অশ্রুদের স্তব্ধ চরাচরে?
তবে কি স্পর্শের কিছু নেই এই সারিবদ্ধ কাতরোক্তি ছাড়া?
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৪
প্রতিদিন আঁকি পথ, প্রতিদিন তার চিহ্ন মুছে মুছে যায়
কোথায় চলন শুরু, কোনখানে চুপিসাড়ে নিতে হবে বাঁক
কোথায় ধরেছে চিড়, উঠে আসে অন্ধকার পাতালের থাবা
কোথায় ভাঙন গেছে পায়ে পায়ে চাঁদে-পোড়া নদীর কিনারে
সহসা গমনভঙ্গি দ্বিধা হ’য়ে দুই বাহু দু’দিকে উদ্যত
কোথা যে গন্তব্য কার – কোনওদিকে ধিকিধিকি বালির হাতছানি
হাওয়ার কাঁপনে শূন্যে ফুটে ওঠে শুশ্রূষার আলেখ্যবিভ্রাট
কোনও দিক চলে গেছে হিমাঙ্ক পেরিয়ে আরও বরফের নিচে
হয়ত তৃতীয় কোনও বিকল্পও আছে ঘোর অবচেতনায়
ঝোপঝাড় লতাগুল্মে লাফ দিয়ে পড়া ওই সর্পিল রেখায়
যে-পথ গিয়েছে চলে শ্রাবণপ্রান্তর ছোঁয়া মেঘনীলিমায়
শ্যামল গন্ধের ভারে রোমকূপ ভরে ওঠে মৃত্তিকামায়ায়
এ-পথ আঁকিনি আমি, এই পথ বয়ে আসা বাংলা কবিতার
এই পথ সভাহীন রাষ্ট্রহীন ক্ষমাহীন কালপুরুষের
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৫
জ্বলন্ত সেতুর বুকে ছুটে যাই শ্বাসরুদ্ধ একা অশ্বহীন
আকাশে থমথমে মেঘ, মাঘের সংক্রান্তি ঘিরে এলোমেলো হাওয়া
পেছনের পথরেখা মুছে যাচ্ছে ঝরে যাচ্ছে অভ্যস্ত কবচ
ছিঁড়ে যাচ্ছে জন্মগ্রন্থি, বিশাল তোরঙ্গ-বন্দি রাঙা রূপকথা
শিকারি কুকুরগুলি ছুটে আসছে পিছু পছু মাংসের নেশায়
খচ্চরের পিঠে কেউ পাঠিয়েছে প্রেতসিদ্ধ ভাষার কঙ্কাল
বিষাক্ত হুলের বর্শা ঘাড়ে ক’রে উড়ে আসছে লক্ষ লক্ষ মাছি
আমারই স্খলিত বীর্যে অর্ধকামে বিকলাঙ্গ ভূমিষ্ঠ শিশুরা
তবে কি ওপারে মুক্তি, শ্যাম শষ্প তরুগুল্ম বনস্পতি ঘেরা?
অথবা মেছুয়াপল্লী – জাল দড়ি শুঁটকি মাছ উল্টানো নৌকার
পেছনে আলকাতরা লেপা, গলুয়ের আঁকা-চোখে স্বপ্ন কলরোল?
না কি সে দর্পণ মাত্র, ঠিকরে দেবে আরও এক ঘাতক শহর?
সমস্ত কুয়াসাঢাকা, কিংবা চোখ দ্বিধাগ্রস্ত অশ্রুবাষ্পময়
সেতুর ওপারে তবে মাথামুণ্ডু অশ্বডিম সম্পূর্ণ অজানা
এখন আগুনই সত্য সর্বব্যপ্ত একমাত্র দ্যোতনার ধ্বজা
পেছনে অতীত, সামনে ঝাপসা ভবিষ্যৎ, মাঝে সামান্য যোজক
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৬
জীবন্ত আগুনে আজ জ্বলে যাচ্ছে কারুকার্য ভাষার আড়াল
উপমা সংকেতলিপি ইঙ্গিতগূঢ়তা শ্লেষ – সব পুড়ে ছাই
পুড়ে যাচ্ছে যত্নে গড়া আলো-আঁধারির রঙে আঁকা ছদ্মবেশ
লুকানোর রাস্তা নেই, সমস্ত পৃথিবী দেখছে কোটি চক্ষু মেলে
যা ছিল গোপন ক্ষত অরণ্যের চোরাপথে নিভৃত ছাউনি
তৃণবৎ উড়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত বাতাসে তার নাজুক নির্মাণ
অকূল নগ্নতা এসে মেলে ধরছে ক্ষমাহীন ভাষার কঙ্কাল
মহাবিশ্ব ছেদ ক’রে প্রতিটি নক্ষত্রপুঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে আলো
তবে কি সমুদ্রগর্ভে ছুটে যাব, লুকাব এ-জিহ্বাজটিলতা?
কিন্তু জিহ্বা যন্ত্রমাত্র, ভাষা? সে তো উৎসারিত অন্তহীন মনে
কীভাবে শমিত করব তার ডানা, ছিঁড়ে ফেলব ক্ষুধার্ত শেকড়
গভীর সুরঙ্গ থেকে সে যে তবু ছুঁড়ে দেয় উদ্ধত প্রলাপ
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৭
উন্মাদের হাসি ওই ভেসে আসে পাথরের দুর্গ ভেদ ক’রে
চোরাচালানির হাতে নিষিদ্ধ গ্রন্থের মতো নক্ষত্রখচিত
ইঁদারার কালো গর্ভে যেভাবে চুরমার হয় প্রতিধ্বনিমালা
রাত্রির আকণ্ঠ তন্দ্রা মুছে যায় ছুটে আসা উল্কার স্তবকে
সে-হাসি পথের ধারে একাকী বৃক্ষের মতো মেলে ধরে ছায়া
ভ্রমণের পিছু পিছু ধেয়ে আসে কখনও বা, যেন আততায়ী
কখনও গম্ভীর রিক্ত সর্বনাশা অভ্রলেহী, কখনও ভিখারি
বঙ্কিম চপল নৃত্যভঙ্গিমায় ভেঙে পড়া উদ্ধত আকুল
সে-হাসি জন্মের মতো কেড়ে নেয় দুই চক্ষু বিষাক্ত ছোবলে
আলো আর অন্ধকারে কেঁপে ওঠা মহাজল দুয়ারে দুয়ারে
রাত্রিকে বানায় দিন, দিনকে বানায় মেঘ, ছোটে অশ্বারোহী
ধুলোয় ধুলোয় লেখে ইতিহাস, মুছে দেয়, বাজায় খঞ্জনি
কখনও স্তব্ধতা নামে, বোধিগাছ থেকে টুপ ঝরে পড়ে পাতা
রক্তের সঞ্চয় থেকে তুলে আনে হাসি তার অজ্ঞতার ভাষা
কেঁপে ওঠে তারাগুলি, হাওয়া বয় অন্তহীন মহাশূন্য ঘিরে
উন্মাদের হাসি শুধু জেগে থাকে মৃত্যুহীন বন্দরের আলো
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৮
ছড়িয়ে পড়েছি যেন কেন্দ্রহীন ধোঁয়ার পরিধি, প্রতিদিন
খানা ও খন্দের খাঁজে সামান্য কল্পনাহীন জলের কান্নায়
অন্ধ গলিঘুঁজি চিরে ছন্নছাড়া কুয়াসার ভিক্ষা প্রলোভনে
মেঘে ও মাটিতে, যমে, নিয়মের অন্ধকার কব্জায় কোটরে
ঝরে গেছে সুর এই চোখ থেকে, ঘন চুল থেকে, প্রতিদিন
ঝরেছে ঘ্রাণ ও স্পর্শ, অন্তরাল, একাকিত্বে যৌথ অভিযান
ঘরের নিবিড় স্বপ্ন, পথে পথে নক্ষত্রখচিত হাহাকার
হাঁসের শরীর থেকে পালকেরা চৈত্রঝড়ে যেভাবে ঝরেছে
এখন দু’চোখে ঘুম, চরাচর অনর্গল মুছে মুছে যায়
রাত্রি-অন্ধকারে তবু একা একা শীর্ণ পায়ে বেরিয়ে পড়েছি
প্রতিটি পালক ওই অকাতরে ঝরে যাওয়া পরমহংসের
কুড়াব দু’মুঠো ভরে, একে একে গুঁজে রাখব শরীরের ভাঁজে
আবার জড়িয়ে আসবে ঘন হয়ে মাঞ্জাসুতো লাটাইয়ের পাকে
তারপর দিকে দিকে উড়ে যাবে আলো-ঝলমলে ঘুড়িগুলি
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
০৯
সুরঙ্গের গর্ভ থেকে ছুটে আসে প্রতিধ্বনি তৃষ্ণার্ত থাবায়
যত তাকে মুছে দিই মনে মনে, যত ছিঁড়ি গোপন ডাকনাম
শূন্যতার মর্ম থেকে তবু কেন ভেসে আসে সিন্ধুকলরব
যেন রুক্ষ বর্গক্ষেত্র ভেদ ক’রে ফুটে উঠল বৃক্ষের উড়াল
আর তার ছায়াপুঞ্জ বল্কল কোটর কাণ্ড পাতা ও শেকড়
ছুঁড়ে দেয় লক্ষ হাত, কেবলই জড়াতে চায় নশ্বর প্রতিভা
বলে – বৃত্তপথ, তুমি যতই ছড়াও শূন্যে মহাবিশ্বলোকে
ছুটন্ত বিন্দুর চোখ ভেসে যাক যতদূর শ্যামনীলিমায়
জেন’ এ-ভাষার লিপ্সা জন্মান্ধ কান্নার সুর হাহাকারগুলি
বেজে যাবে অন্তহীন ধমনীর গাঢ় স্পন্দে সুপ্ত নাভিমূলে
আর সেই গুহামুখ ব্যাসার্ধের মতো এক অদৃশ্য রজ্জুতে
বেঁধে রাখবে পরিধিকে, ছুঁড়ে দেবে প্রতিধ্বনি স্তবকে স্তবকে
বুঝি, এ ভ্রমণ মায়া, নিঃসঙ্গ সঞ্চারপথও দূরনিয়ন্ত্রিত
যেহেতু চোখের তারা বাউলের হাতে উঠে বেজেছে বাংলায়
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
১০
এসো আজ পাঠ করি মেঘের অস্ফুট বার্তা ছায়াভাষ্যগুলি
সমুদ্রের শ্যামগর্ভ কোন্‌ চিহ্ন এঁকে দিল লবণাক্ত চোখে
অবলুপ্তি ছিন্ন ক’রে অরণ্য পাঠাল কোন্‌ আরূঢ় ইশারা
কোন্‌ মেরুচূড়া থেকে ভেসে এল চারুপাঠ, ইয়েতির হাসি
পাঠ করি ধূলিকণা, মৃত্তিকার আঁকাবাঁকা নদীমুগ্ধ বাঁশি
জলৌকার চোরাটান, গঞ্জে ও বন্দরে বোনা কাহিনির জাল
জটিল শহর ছিঁড়ে উঠে আসা রাজনীতি, ঘুড়ির কঙ্কাল
দাবার উলটানো ছক, ভোরের ময়দান আর বন্ধ মিলগেট
পাঠ করি চুপি চুপি রোদের উল্লাসে কেঁপে-ওঠা ক্লোরোফিল
বীজের রহস্য, যেন দৃশ্যাতীত অনিরুদ্ধ জলতরঙ্গের
সারি সারি অন্ধ সুর এইমাত্র মেলে দেবে চোখের প্রার্থনা
পড়ি আগুনের ভাষা, প্রতীক্ষায় থরো থরো লুপ্ত অভিষেক
এসো পড়ি নিজেকেও, কী আছে সে-গুহাচিত্রে সোপানের স্তরে
সুরঙ্গের অন্ধকারে হরফে হরফে গাঁথা কোন্‌ প্রত্যাদেশ
রক্তের তুমুল স্রোতে দূর থেকে ভেসে আসা নিশানের ভাষা
পাঠ করি বাক্য আর প্রতিধ্বনি খুলে দেয় অদৃশ্য পাথর
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
১১
আবার নতুন ক’রে পাঠ নিই এসো তবে স্বরবর্ণ থেকে
কণ্ঠনালী থেকে শ্বাস ছুটে আসে মুখগর্ভে বিভিন্ন ভঙ্গিতে
ওষ্ঠ তাকে ছুঁড়ে দেয় বিনাবাক্যে সন্নিহিত আকাশের বুকে
যেন শূন্যে আঁকা হচ্ছে সারি সারি স্বপ্নলব্ধ চুম্বনভঙ্গিমা
জেগে ওঠে নাদব্রহ্ম, নদী উৎস থেকে সুর নেমে আসে ঢালে
ছোটে মোহানার দিকে, তীরে তীরে জেগে ওঠে আর্ত জনপদ
অতঃপর জ্বলে চুল্লি, জঠরাগ্নি শান্ত করতে অন্ন ও ব্যঞ্জন
বাধাগ্রস্ত স্বরগুলি ভেঙে পড়ে মর্মে মর্মে মূর্ছিত ধ্বনিতে
এবার ব্যঞ্জনবর্ণ। কণ্ঠ তালু মূর্ধা দাঁত ঠোঁট ছুঁয়ে ছেনে
উঠে আসে কত শ্বাস, ঝুঁকে পড়ে, টান দেয়, জড়ায় মুঠিতে
গভীর গম্ভীর কেউ, কেউ উষ্ণ, কেউ স্পৃষ্ট, কেউ তীব্র শিসে
বাতাস মন্থন ক’রে ছুটে যায়, কেঁপে ওঠে আত্মার আত্মীয়
এ-কম্পন শেষ হয় অনুস্বর বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু দিয়ে!
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
১২
ধুলো থেকে শুরু করি, আহ্লাদী নগর যদি চূর্ণ হয়ে গেছে
আমর্ম সভ্যতা স্তব্ধ, তার কাটা, নিষ্প্রদীপ ছিন্ন শালখুঁটি
পথে পথে আর্ত চিড়, সংযোগচিহ্নের বুকে অজস্র ফাটল
সুরঙ্গের বুকে ধায় উড়ন্ত গ্রন্থের পৃষ্ঠা, জোনাকিরা, যদি
যদি বাক্য ডানাঝরা নদীর চড়ার বুকে পাখির কঙ্কাল
স্বপ্নের কপাল কেটে গড়িয়ে চলেছে বাঁকা শ্যাম রক্তরেখা
ফসলের স্রোতে হুহু ভেসে আসে একচক্ষু কীটের ইশারা
যদি মাটি ভেদ ক’রে উঠে আসে অন্ধকার স্তবকে স্তবকে
তবু শুরু ধুলো দিয়ে, জাদু নেই, আছে রক্তে আদিম পৃথিবী
আছে নদী মৃত্যুহীন, অস্থি-র কোটরে আছে মেঘের সঞ্চয়
আছে পথ হৃদিমধ্যে ছেঁড়া ছেঁড়া ডুবে যাওয়া আধোনীলিমায়
আবার নামাব বৃষ্টি, আজানের শব্দে যেন নেমে আসবে ভোর
ধুলো থেকে হব তৃণ, তৃণ থেকে ছায়াচ্ছন্ন গুল্মকুঞ্জলতা
আবারও বৃক্ষের দিকে মেলে দেব ডালপালা ধুলোয় ধুলায়
 _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 
১৩
যেখানে পথের শেষ, সেই স্তব্ধবিন্দু থেকে শুরু হোক চলা
যেখানে আলোর ঢেউ চূর্ণ হয়ে ভেঙে গেছে অন্ধকণিকায়
যেখানে নিষ্পত্র গাছ, বিবর্ণ তৃণের গুচ্ছ, ছায়াহীন মাটি
নদীতে রক্তের স্রোত, সমুদ্র যেখানে মত্ত ফুটন্ত লাভায়
সুড়ঙ্গের প্রান্তমুখ যেখানে পাথরচাপা, বাতাস গম্ভীর
শ্বাসরুদ্ধ গন্ধকের অনর্গল কুণ্ডলিত ধোঁয়ায় আবিল
আকাশে নক্ষত্র নেই, চন্দ্র সূর্য রসাতলে, আদিম ভয়াল
একচক্ষু ময়ালের ক্ষুধার্ত চোয়াল থেকে ঝরে পড়ে ক্ষার
যেখানে পাখির গান ধীরে ধীরে শুষে নেয় মাকড়সার জাল
পর্বত যেখানে ভীরু, নতজানু, বামন দৈত্যের পদনখে
শহর শাসন করে যেখানে হৃদয়হীন গভীর আসবাব
নিথর সড়কদ্বীপ ভরে যায় ক্ষমাহীন ভাষার কঙ্কালে
শুরু হোক সেখানেই, যেখানে সমস্ত দৃশ্য কুয়াসালাঞ্ছিত
যেখানে সমাপ্তি বলে মনে হ’ল, জেনো তা-ই পথের সূচনা
   _________________________________আব্দুল মালেক শুভ 

পথের জটিল লাস্য ছুঁয়ে দেখি তুমি দূর ছায়াপথিকের আলোর গভীরে তুমি অন্ধকার

সমস্ত বৃক্ষের মর্মে চিরদিন তোমাকে খুঁজেছি বৃক্ষতম
সমস্ত মেঘের পুঞ্জে তোমাকেই, বৃষ্টিঘোর প্রার্থনার মেঘ
সমস্ত নদীর গর্ভে তুমি স্বচ্ছ উতরোল সমুদ্রসংকেত
রাত্রির আড়ালে রাত্রি তুমি মহানিশীথের অলঙ্ঘ্য ব্যঞ্জনা
পথের জটিল লাস্য ছুঁয়ে দেখি তুমি দূর ছায়াপথিকের
আলোর গভীরে তুমি অন্ধকার হরিণের জ্বলে ওঠা চোখ
চিরবিষাদের রক্তে বেড়ে ওঠ তুমি তীব্র সুরকাতরতা
তুমিই চূড়ান্ত হর্ষ অফুরন্ত থরো থরো সিঁড়ির কিনারে
বাক্যের ইঙ্গিতগুলি নিভে এলে জ্বলে ওঠে তোমার ইশারা
সব অগ্নি তুচ্ছ, তুমি ক্ষমাহীন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দাবানল
সমস্ত জাগর দৃশ্যে তোমাকেই খুঁজে গেছি চিরজাগরণ
ঘুম শেষ হ’লে তুমি নিয়ে চলো অন্তিমের আরও গাঢ় ঘুমে

বাতাস উধাও আজ, ঢেউ দাও, কেঁপে ওঠো তরঙ্গ

মুছো না এ-অন্ধছবি, কানে কানে বলে যাওয়া নিঃশব্দ হরফ
কেড়ো না এ-জন্মরথ, বসন্তের ভিক্ষুকের ক্ষণিক পতাকা
ভেঙে না এ-রাত্রিগান, গলন্ত মোমবাতি, হাওয়া, কাঁপা উচ্চারণ
ছিঁড়ো না অদৃশ্য রজ্জু, নদীর নির্জন বাঁকে লুকানো তরণী
বাতাস উধাও আজ, ঢেউ দাও, কেঁপে ওঠো তরঙ্গ অপার
ফেনায় ফেনায় নাচো, ফুলে ওঠো, ধুয়ে দাও মজ্জার মরিচা
এ-নৈশপ্রলাপটুকু তুলে রাখো, গায়ে তার এঁকে দাও ডানা
উড়ে যাক্‌ ক্ষণমাত্র – যতদূর আশ্বিনের শান্ত ছায়াপথ
                            _______________আব্দুল মালেক শুভ 

তবুও ফিরব না আজ, ওগো রাত্রি, হেঁটে যাব আগুন মাড়িয়ে চলতে চলতে জ্বলে উঠব, অন্ধকারে মেলে ধরব হাড়ের মশাল

যদি দিলে প্রাণ আর কানে কানে দুর্নিবার ভ্রমণ শেখালে
বোলো না হে পথ তবে ফিরে যেতে স্মৃতিহীন অস্পষ্ট তন্দ্রায়
বরং ফেরার সেতু ভেঙে ফেলি, পালাবার সমস্ত সড়ক
মুছে ফেলি একে একে, তারপর মুখোমুখি দাঁড়াই স্বপ্নের
হয়তো চোখ ঝলসে যাবে, গৃহযুদ্ধে খসে যাবে বিবর্ণ পতাকা
হয়তো সে-রূপ আমি সহ্য করতে না-পেরে চিৎকার করব শেষে
তবুও ফিরব না আজ, ওগো রাত্রি, হেঁটে যাব আগুন মাড়িয়ে
চলতে চলতে জ্বলে উঠব, অন্ধকারে মেলে ধরব হাড়ের মশাল
                             _______________আব্দুল মালেক শুভ 

পারি না, ঘুমিয়ে পড়ি, শ্লথ আলো নেমে আসে বিপন্ন রাত্রির দেখি

জানালায় কেঁপে ওঠে পাণ্ডু রাত চক্ষুহীন নিঃস্বতার ছায়া
ও-প্রেত আমার, তাকে কোন্‌ ভাঙনের পথে দেব বিসর্জন
নক্ষত্র গিয়েছে সরে দিনে দিনে তাকে আর ফেরাতে পারি না
তবুও দু’হাত ভরে ছুঁতে যাই অন্ধকার শারদ মনীষা
পারি না, ঘুমিয়ে পড়ি, শ্লথ আলো নেমে আসে বিপন্ন রাত্রির
দেখি নদী, দেখি ধান, কাশের দিগন্তে মোড়া চন্দ্রকেতুগড়
যা ছিল অতীত লুপ্ত বৃষ্টিধোয়া পাথরফলকে লেখা নাম
দেখি তারা জেগে উঠে ভোরের আলোর মতো আদরে জড়ায়
তবু এ-আঙুল, ভাবি, আঙুরলতার মতো পড়ুক ছড়িয়ে
শূন্যতাকে মুছে দিক দ্রাক্ষারসে, ইতিহাস পুনর্লিখনের

আমি নৈশ কারিগর, প্রকাশ্য আলোয় হাঁটি ভিড়ের গভীরে গূঢ় অভিসন্ধিগুলি যথাসাধ্য ঢেকে রাখি হাসির আড়ালে

পৃথিবী হয়েছে স্তব্ধ, এবার পাঠাও দ্রুত তোমার সংকেত
রাত্রির পোশাকে ডুবে চুপিচুপি নেমে আসি প্রাচীরের কাছে
নীরবে প্রস্তুত করি ছেনি ও হাতুড়ি, আর নির্মম আঘাতে
গড়ে তুলি অল্পে অল্পে সুরঙ্গের দীপ্ত মুখ নিভৃত দ্যোতনা
আমি নৈশ কারিগর, প্রকাশ্য আলোয় হাঁটি ভিড়ের গভীরে
গূঢ় অভিসন্ধিগুলি যথাসাধ্য ঢেকে রাখি হাসির আড়ালে
মর্মের গোপন ক্ষত যদিও অস্থির করে কামড়ে কামড়ে
তবু নিই বাতাসের তোমাকে জড়িয়ে থাকা শ্বাসরোধী ঘ্রাণ
তারপর তারা ফোটে, শুরু হয় গাছেদের সুপ্ত কানাকানি
দু’চোখে জড়ায় তন্দ্রা, মাঝে মাঝে টলে পড়ি মাতৃহারা ঘুমে
আবার দাঁড়াই উঠে, পায়চারি করি, আর স্নায়ুর গভীরে
কান পেতে রাখি, শুনি, ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে এল তোমার ইশারা

                                         __________আব্দুল মালেক শুভ 

তোমার প্রাণের কাছে যাব বলে ওগো রাত্রি, যে-ভাষা খুঁজেছি কখনও পেয়েছি তার চকিত প্রলাপ আর কখনও বা ঘুমে

তোমার প্রাণের কাছে যাব বলে ওগো রাত্রি, যে-ভাষা খুঁজেছি
কখনও পেয়েছি তার চকিত প্রলাপ আর কখনও বা ঘুমে
পিছল সিঁড়ির পথে হারিয়ে ফেলেছি তার একমাত্র মুখ
ভাঙাচোরা আলো নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি তবু বৃষ্টিভেজা পথে
দেখেছি সুন্দর তুমি আমাকেও তিলে তিলে করেছ সুন্দর
সে-সৌন্দর্যভার তবে কীভাবে বহন করব শেখালে না কেন
করতলে তুলে নেব অবলুপ্ত সভ্যতার মৃৎপাত্রগুলি
তুমি মদ ঢেলে দিলে কীভাবে তা পান করব প্রাচীন শতকে
এত যে দিয়েছ তবু কেন বলো বারংবার শূন্য হয়ে যাই
ভেঙে ফেলি মূর্তি আর ভেঙে পড়ি অশ্রুহীন জন্মান্ধ কান্নায়
কেবলই হারাই পথ, হেঁটে মরি হিজিবিজি বিপন্ন ধাঁধায়
তোমার প্রাণের কাছে যাব বলে, ওগো রাত্রি, তবু জেগে থাকি
                                             ______আব্দুল মালেক শুভ 

আমি আলো অন্ধকার

পুনর্ভবা রাত্রি, যদি জেগে আছ, কেড়ো না স্বপ্নের শেষ ছবি
কেড়ো না অন্তিম হাসি, দূরের নক্ষত্র থেকে ঝরে পড়ে কণা-
মাত্র আলো, কেড়ো না চৈত্রের ঝড়ে ঠোঁটে-ধরা সামান্য খড়কুটো
ইশারার ক্ষীণ আভা স্পর্শ ক’রে যেতে হবে অনিশ্চিন্দিপুর
রক্তাক্ত সিঁড়ির বুকে থিরিথিরি অন্ধকারে নেমে গেছে পথ
তুমুল হাতছানি যদি বেজে ওঠে স্থবিরের দিকশূন্য ঘুমে
কাঠুরিয়া হবে মন ঢুকে পড়বে অরণ্যের স্তর থেকে স্তরে
কুঠার যেখানে স্তব্ধ, সবুজ সন্ত্রাসে মত্ত বৃক্ষের সাঁজোয়া
দরোজা, থেকো না বন্ধ, খুলে দাও অন্তহীন সমস্ত প্রস্তাব
ওপারে আকাশ আর পৃথিবীর অনর্গল আশ্চর্য প্রতিভা
যদি আছ নিদ্রাহীন, ধরো হাত, ফেলে দাও কৃপণ লন্ঠন
অন্ধের তরঙ্গে চলো ঝাঁপ দিই দুর্নিবার – স্বপ্ন যদি শেষ …

Happy Friendship Day 2017 বন্ধুত্ব হলো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক । আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হল বন্ধুত্ব । সমাজবিদ্যা, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, এবং দর্শনে বন্ধুত্বের শিক্ষা দেয়া হয় ।





বন্ধুত্ব হলো মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক । আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হল বন্ধুত্ব । সমাজবিদ্যা, সামাজিক মনোবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, এবং দর্শনে বন্ধুত্বের শিক্ষা দেয়া হয় । সামাজিক বিনিময় তত্ত্ব, ইকুইটি তত্ত্ব, রিলেশনাল দ্বন্দ্ববাদ, এবং সংযুক্তি শৈলী সহ ইত্যাদিতে বন্ধুত্বের বিভিন্ন একাডেমিক তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে । ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ডেটাবেজ গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কারনে মানুষ সুখী হয় ।
যদিও সেখানে বন্ধুত্বের অনেক রূপ আছে কিছু অবস্থান অনুসারে ভিন্ন হয় কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনেক বন্ধনের মধ্যে উপস্থিত থাকে । স্নেহ, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, সততা, পরার্থপরতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া, এবং সমবেদনা, একে অপরের সঙ্গ, আস্থা, নিজের যোগ্যতা, অনুভূতি প্রকাশ, ভয় ছাড়াই বন্ধুর কাছে ভুল করা এই ধরনের বৈশিষ্ট্য বন্ধুত্বে অন্তর্ভুক্ত ।
কি ধরনের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গঠন করতে পারেন তার কোন ব্যবহারিক সীমা নেই, তার ব্যাকগ্রাউন্ড, জীবিকা, ভাল লাগা, অনুরূপ জনমিতি আছে কিনা তা শেয়ার করা ।

Facebook Addicted I'm talking about some of them ফেসবুক এডিক্টেড

Facebook Addicted
I'm talking about some of them
ফেসবুক এডিক্টেড ,
লাইক , কমেন্ট , রিইয়েক্ট , শেয়ার , ম্যাসেজ , ইত্যাদি ।
কি লাভ এগুলোতে কোনো লাভ নাই ,
খালি সময় অপচয় নিজে নিজকে কুড়াল মারা নিজকে নিজ ক্ষতিগ্রস্ত করা চাড়া কোনো লাভ নাই ।
নেশাগ্রস্ত ফেসবুকিং করা চেড়ে দিন আপনার ফেসবুক চেড়ে অন্য দিকে সময় দিন ভালো সফলতা অর্জন করতে পারবেন সুখী সমৃদ্ধ জীবন যাপন করতে পারবেন ।


সময় দিন নিজের কাজে পড়ালেখা , ক্যারিয়ার ,ব্যবসা ,বাণিজ্য , চাকরী মনবসেবায় , ইত্যাদি ।
আপনি এটাও ভাবতে পারেন আমি কেনো এসব কথা বলছি আমি ও তো একি নৌকার মাঝি ,
আসলে ভুল করলে মানুষ শিক্ষা পায়
তাই আগে ভুল করছি এখন আর না চেষ্টা করি সব সময় ফেসবুকে কম আসতে ।

বুধবার, ১৯ জুলাই, ২০১৭

পর্দা-বিধান ইসলামী শরীয়তের পক্ষ থেকে সাধারণভাবে সমাজ-ব্যবস্থার এবং বিশেষভাবে উম্মতের মায়েদের জন্য অনেক বড় ইহসান।

পর্দা-বিধান ইসলামী শরীয়তের পক্ষ থেকে সাধারণভাবে সমাজ-ব্যবস্থার এবং বিশেষভাবে উম্মতের মায়েদের জন্য অনেক বড় ইহসান। এই বিধানটি মূলত ইসলামী শরীয়তের যথার্থতা, পূর্ণাঙ্গতা ও সর্বকালের জন্য অমোঘ বিধান হওয়ার এক প্রচ্ছন্ন দলিল। পর্দা নারীর মর্যাদার প্রতীক এবং ইফফাত ও পবিত্রতার একমাত্র উপায়।
অনেকে মনে করেন, পর্দা-বিধান শুধু নারীর জন্য। এ ধারণা ঠিক নয়। পুরুষের জন্যও পর্দা অপরিহার্য। তবে উভয়ের পর্দার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। যে শ্রেণীর জন্য যে পর্দা উপযোগী তাকে সেভাবে পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


যে কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই কুরআন-সুন্নাহর পর্দা সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসসমূহ গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে এই বাস্তবতা স্বীকার করবেন যে, ইসলামে পর্দার বিধানটি অন্যান্য হিকমতের পাশাপাশি নারীর সম্মান ও সমাজের পবিত্রতা রক্ষার জন্যই দেওয়া হয়েছে। এজন্য এই বিধানের কারণে প্রত্যেককে ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কৃতঘ্ন হয়ে এ বিধান সম্পর্কে অযথা আপত্তি করা উচিত নয়।

আকবর এলাহাবাদী বলেন-
প্রাশ্চাত্যের ও প্রাশ্চাত্য প্রভাবিত পুরুষদের অন্তরে পর্দা পড়ে যাওয়ার কারণে তারা এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে না পারলেও আজকের পশ্চিমা নারীরা এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। আর এই বিধানটিই তাদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মাধ্যম হয়েছে।’

আমি পূর্বেই বলেছি, নারী-পুরুষ উভয়ের পবিত্রতা রক্ষার অতি সহজ ও কার্যকর উপায় হল ইসলামের পর্দা বা হিজাব বিধান। এই বিধানের অনুসরণের মাধ্যমেই হৃদয়-মনের পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। পর্দার এই সুফল স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন।
ইরশাদ হয়েছে-
ذلكم اطهر لقلوبكم وقلوبهن
এই বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)

সুতরাং মানবসমাজকে পবিত্র ও পঙ্কিলতামুক্ত রাখতে পর্দা-বিধানের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বর্তমান সমাজের যুবক ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা ও নারীজাতির নিরাপত্তার জন্য পর্দা-বিধানের পূর্ণ অনুসরণ এখন সময়ের দাবি।

পর্দা-বিধান কুরআন মজীদে

পর্দার বিধানটি ইসলামের একটি অকাট্য বিধান। কুরআন মজীদের অনেকগুলো আয়াতে এই বিধান দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ঈমানদারের পক্ষে এই বিধানকে হালকা মনে করার সুযোগ নেই। এখানে কয়েকটি আয়াত সংক্ষিপ্ত আলোচনাসহ তুলে ধরা হল।

এক.
يا ايها النبى قل لازواجك وبناتك ونساء المؤمنين …
হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।-ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪

ইবনে সীরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ী) আবীদা (সালমানী রাহ.)কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।

দুই.
واذا سألتموهن فسئلوهن من وراء حجاب …
তোমরা তাঁদের (নবী পত্নীদের) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। তোমাদের কারো জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্নীদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনো বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)

এই আয়াত থেকেও বোঝা যায়, নারীর দেহের কোনো অংশই পর্দা-বিধানের বাইরে নয়। উম্মুল মুমিনীনগণের আমলও তা প্রমাণ করে।

এই আয়াতে যখন পর্দার বিধানকে সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মুল মুমিনীনদের জন্যও অধিকতর পবিত্রতার উপায় বলা হয়েছে তখন উম্মতের আর কে আছে যে এই বিধানের বাইরে থাকতে পারে?


তিন.
قل للمؤمنت يغضنن من ابصارهن ويحفظن فروجهن ولا يبدين زينتهن الا ما ظهر منها
তরজমা : (হে নবী!) মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আবরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ হচ্ছে কাপড়।-তাফসীরে তাবারী ১৮/১১৯

এই ব্যাখ্যা অনুসারে প্রতীয়মান হয় যে, গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমন্ডলসহ পূর্ণ দেহ আবৃত রাখা অপরিহার্য।

চার.
وليضربن بخمرهن على جيوبهن
তরজমা : তারা যেন গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। … (সূরা নূর : ৩১)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন,
يرحم الله نساء المهاجرات الأول، لما أنزل الله : وليضربن بخمرهن على جيوبهن شققن مورطهن فاختمرن بها.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা প্রথম শ্রেণীর মুহাজির নারীদের প্রতি দয়া করুন।
আল্লাহ তাআলা যখন
وليضربن بخمرهن على جيوبهن
আয়াত নাযিল করলেন তখন তারা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করেছিলেন।-সহীহ বুখারী ২/৭০০

উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন-‘ফাখতামারনা’ অর্থ তারা মুখমন্ডল আবৃত করেছেন।-ফাতহুল বারী ৮/৩৪৭

আল্লামা আইনী রাহ. বলেন-‘ফাখতামারনা বিহা’ অর্থাৎ যে চাদর তারা ছিঁড়ে ফেলেছিলেন তা দিয়ে নিজেদের মুখমন্ডল আবৃত করলেন। (উমদাতুল কারী ১৯/৯২)

আল্লামা শানকীতী রাহ. বলেন, এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, উপরোক্ত মহিলা সাহাবীগণ বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মুখমন্ডল আবৃত করারও আদেশ করেছেন। তাই তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনার্থে নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে মুখমন্ডল আবৃত করেছেন।

পাঁচ.
ولا يضربن بارجلهن ليعلم ما يخفين من زينتهن وتوبوا الى الله جميعا ايه المؤمنون لعلهم تفلحون
(তরজমা) তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর : ৩১)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানদার নারীর কর্তব্য। কারণ পরপুরুষকে নুপুরের আওয়াজ শোনানোর উদ্দেশ্যে সজোরে পদবিক্ষেপ যখন নিষেধ করা হয়েছে তখন যে সকল কাজ, ভঙ্গি ও আচরণ এর চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করে তা নিষিদ্ধ হওয়া তো সহজেই বোঝা যায়। মুসলিম নারীদের জন্য এটি আল্লাহ রাববুল আলামীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

পর্দার বিধান হাদীস শরীফে

১. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
নারী হল সতর তথা আবৃত থাকার বস্ত্ত। নিশ্চয়ই সে যখন ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তাকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে। আর সে যখন গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করে তখন সে আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকে।-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী

এই হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়।

২. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব ও হাতমোজা পরিধান না করে।
(সহীহ বুখারী ৪/৬৩, হাদীস : ১৮৩৮)

কাযী আবু বকর ইবনে আরাবী বলেন, নারীর জন্য বোরকা দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত রাখা ফরয। তবে হজ্বের সময়টুকু এর ব্যতিক্রম। কেননা, এই সময় তারা ওড়নাটা চেহারার উপর ঝুলিয়ে দিবে, চেহারার সাথে মিলিয়ে রাখবে না। পরপুরুষ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবে এবং পুরুষরাও তাদের থেকে দূরে থাকবে। (আরিযাতুল আহওয়াযী ৪/৫৬)

৩. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি অহঙ্কারবশত কাপড় ঝুলিয়ে রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। তখন উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুল কীভাবে রাখবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে। উম্মে সালামা বললেন, এতে তো তাদের পা অনাবৃত থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে এক হাত ঝুলিয়ে রাখবে, এর বেশি নয়।
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪১১৭; জামে তিরমিযী ৪/২২৩; সুনানে নাসাঈ ৮/২০৯; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১১/৮২

ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীসে নারীর জন্য কাপড় ঝুলিয়ে রাখার অবকাশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এটিই তাদের জন্য অধিক আবৃতকারী।

৪. ওকবা ইবনে আমের জুহানী রা.-এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসারী সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামী পক্ষীয় আত্মীয় সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললে, সে তো মৃত্যু।
-সহীহ বুখারী ৯/২৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২১৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৭১; মুসনাদে আহমাদ ৪/১৪৯, ১৫৩

এই হাদীসে বেগানা নারী-পুরুষের একান্ত অবস্থানকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে স্বামী পক্ষীয় আত্মীয়-স্বজন যেমন দেবর-ভাসুর ইত্যাদির সাথে অধিক সাবধানতা অবলম্বনকে অপরিহার্য করা হয়েছে।

৫. হযরত আয়েশা রা. ইফ্কের দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন-আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম একসময় আমার চোখ দুটি নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে আগমনকারী। সে যখন আমার অবস্থানস্থলের নিকট পৌছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। সে তখন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি।
অন্য রেওয়ায়েতে আছে, আমি ওড়না দিয়ে আমার চেহারা ঢেকে ফেলি।
-সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩১৭৯

৬. উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম। উম্মুল মুমিনীন মায়মুনা রা.ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম উপস্থিত হলেন। এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও। আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ, আমাদেরকে দেখছেন না?! তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?
-সুনানে আবু দাউদ ৪/৩৬১, হাদীস : ৪১১২; জামে তিরমিযী ৫/১০২, হাদীস : ২৭৭৯; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৯৬; শরহুল মুসলিম, নববী ১০/৯৭; ফাতহুল বারী ৯/২৪৮

৭. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম।
-মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০; ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৯৩৫

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষের সামনে চেহারা ঢেকে রাখা আবশ্যক।

৮. আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন, আমরা পুরুষদের সামনে মুখমন্ডল আবৃত করে রাখতাম। …
-মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, সাহাবা-যুগের সাধারণ মহিলারাও গায়র মাহরাম পুরুষ থেকে নিজেদের চেহারা আবৃত করতেন। কারণ আসমা বিনতে আবি বকর রা. এখানে বহুবচন ব্যবহার করেছেন। যা প্রমাণ করে উম্মুল মুমিনগণ ছাড়া অন্য নারীরাও তাদের মুখমন্ডল আবৃত রাখতেন।

৯. ফাতিমা বিনতে মুনযির রাহ. বলেন, আমরা আসমা বিনতে আবু বকর রা.-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে আমাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখতাম।-মুয়াত্তা, ইমাম মালেক ১/৩২৮; মুসতাদরাকে হাকেম ১/৪৫৪

হযরত ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-যখনই কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাত করে তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।-জামে তিরমিযী

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, একজন মহিলা পর্দার পিছন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি কাগজ দিতে চাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাত গুটিয়ে নিলেন (কাগজটি নিলেন না এবং) বললেন, আমি জানি না, এটা কি পুরুষের হাত না নারীর। মহিলা আরজ করলেন, ‘নারীর হাত।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি যদি নারী হতে তাহলে নিশ্চয়ই নখে মেহেদী থাকত।’
-সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ী

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, পীর-মুর্শিদ ও উস্তাদের সাথেও পর্দা করা অপরিহার্য।

হযরত উমাইমা বিনতে রুকাইকা রা. থেকে বাইয়াত সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে যে, নারীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়েও মেহেরবান। সুতরাং আপনার হাত মোবারক দিন, আমরা বাইয়াত হই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি নারীদের সাথে হাত মিলাই না। (যা মুখে বলেছি তা মেনে চলাই তোমাদের জন্য অপরিহার্য)।
-মুয়াত্তা মালিক

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর কসম! বাইয়াতের সময় তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) হাত কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি শুধু মুখে বলতেন, তোমাকে বাইয়াত করলাম।-সহীহ বুখারী ২/১০৭১

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
দুই শ্রেণীর দোযখী এখনও আমি দেখিনি। (কারণ তারা এখন নেই, ভবিষ্যতে আত্মপ্রকাশ করবে) এক শ্রেণী হচ্ছে ঐ সকল মানুষ, যাদের হাতে ষাঁড়ের লেজের মতো চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে। (দ্বিতীয় শ্রেণী হচ্ছে) ঐ সকল নারী, যারা হবে পোশাক পরিহিতা, নগ্ন, আকৃষ্ট ও আকৃষ্টকারী; তাদের মাথা হবে উটের হেলানো কুঁজের ন্যায়। এরা জান্নাতে যাবে না এবং জান্নাতের খুশবুও পাবে না অথচ জান্নাতের খুশবু তো এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে।
-মুসলিম ২/২০৫, হাদীস : ২১২৮

এই হাদীসে বেপর্দা নারীদের প্রতি কঠিন হুঁশিয়ারি শোনানো হয়েছে। সুতরাং তাদের মৃত্যুর আগেই তাওবা করে পর্দার বিধানের দিকে ফিরে আসা কর্তব্য।

উপরের আলোচনা থেকে জানা গেল যে, কুরআন মজীদে ও হাদীস শরীফে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে। এই বিধান মেনে চলা সকল ঈমানদার নারী-পুরুষের জন্য অপরিহার্য। এবার ঐ সকল নিকটাত্মীয়দের কথা উল্লেখ করছি, যাদের মাঝে পর্দার হুকুম নেই। এরা ছাড়া অন্য সকলের সাথেই পর্দা করতে হবে।

যাদের সাথে পর্দা নেই

মাহরাম পুরুষের সাথে নারীর পর্দা নেই। মাহরাম পুরুষ দ্বারা উদ্দেশ্য হল এমন পুরুষ আত্মীয়, যার সাথে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো অবস্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নয়। যেমন-পিতা, ভাই ইত্যাদি।

আর যে পুরুষের সাথে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা (যেমন-নারীর বোন বা এমন নারীর বিবাহে থাকা, যাদের দু’জনকে বিবাহসূত্রে একত্র করা জায়েয নয়) দূর হওয়ার পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয সে হল গায়র-মাহরাম। তার সাথে পর্দা করা ফরয।

পুরুষের জন্য মাহরাম ও গায়র-মাহরাম নারী

একজন পুরুষের মাহরাম নারী হল এমন নারী, যার সাথে তার বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো অবস্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নয়। যেমন-মা, মেয়ে ইত্যাদি।
পক্ষান্তরে যে নারীর সাথে তার বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা (যেমন-নারীর অন্য পুরুষের বিবাহে থাকা) দূর হওয়ার পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয সে হল গায়র-মাহরাম।

মাহরামের প্রকারভেদ

সাধারণত তিন ধরনের সম্পর্ককে শরীয়ত মাহরাম হওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছে।
যথা : ক) বংশীয়/ঔরসজাত সম্পর্ক। খ) দুধ সম্পর্ক ও গ) বৈবাহিক সম্পর্ক।
বংশগত সম্পর্কের কারণে মাহরাম নারীর বংশ সম্পর্কিত মাহরাম পুরুষগণ হলেন-১. পিতা, দাদা-নানা ও তদোর্ধ্ব পুরুষ। ২. পুত্র, পৌত্র ও তদস্তন পুরুষ। ৩. ভাই-সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়। ৪. ভ্রাতুষ্পুত্র ও তদস্তন পুরুষ। ৫. ভাগ্নে (সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে)। ৬. চাচা।
৭. মামা।

আল্লাহ তাআলার বাণী-
ولا يبدين زينتهن الا لبعولتهن او ابآئهن او ابآء بعولتهن او ابنآئهن او ابنآء بعولتهن او اخوانهن او بنى اخوانهن او بنى اخوتهن او نسائهن او ما ملكت ايمانهن او التبعين غير اولى الاربة من الرجال او الطفط الذين لم يظهروا على عورت النساء
(তরজমা) তারা যেন নিজেদের আভরণ প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যারা যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত অন্য কারো নিকট। (সূরা নূর (২৪) : ৩১)
পুরুষের বংশ সম্পর্কিত মাহরাম নারীগণ হলেন-

১. মা ২. কন্যা ৩. ভগ্নী ৪. ফুফু, ৫. খালা ৬. ভ্রাতুষ্পুত্রী ৭. ভাগ্নী।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
حرمت عليكم امهتكم وبنتكم واخوتكم وعمتكم وخلتكم وبنت الاخ وبنت الاخت.
(তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, কন্যা, ভগ্নী, ফুফু, খালা, ভ্রাতুষ্পুত্রী, ভাগ্নী। … (সূরা নিসা (৪) : ২৩)

দুধ সম্পর্কের কারণে মাহরাম দুগ্ধপানের কারণেও মাহরাম সাব্যস্ত হয়ে থাকে। দুধ মা, দুধ কন্যা, দুধ বোন ইত্যাদি নারীগণ পুরুষের মাহরাম পরিগণিত হবেন। অনুরূপভাবে দুধ পিতা, দাদা ও তদোর্ধ্ব পুরুষ, দুধ পুত্র ও তদস্তন পুরুষ, দুধ ভাই ইত্যাদি পুরুষ নারীর মাহরাম হিসেবে গণ্য হবেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
حرمت عليكم امهتكم … وامهتكم التى ارضعنكم واخوتكم من الرضاعة
(তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা … দুধ-মা, দুধ বোন। … (সূরা নিসা : (৪) : ২৩)

বিখ্যাত মুফাসসির আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ কুরতুবী রাহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন-
একজন নারী যদি কোনো শিশুকে দুধ পান করায় তাহলে সে দুগ্ধ পানকারীর জন্য হারাম হয়ে যায়। কারণ সে তার মা। তেমনি দুধমার মেয়ে, বোন হওয়ার কারণে; দুধমার বোন, খালা হওয়ার কারণে; দুধমার মা, নানী হওয়ার কারণে; দুধমার স্বামীর অন্য পক্ষের কন্যা, বোন হওয়ার কারণে; স্বামীর বোন, ফুফু হওয়ার কারণে; স্বামীর মা, দাদী হওয়ার কারণে ঐ শিশুর জন্য হারাম হয়ে যায়। তেমনি দুধমার ছেলে-মেয়ের সন্তানাদিও হারাম হয়ে যায়। কারণ তারা তার ভাই-বোনের
সন্তানাদি। (তাফসীরে কুরতুবী ৫/৭২)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আবুল কুয়াইসের ভাই আফলাহ (যিনি আয়েশা রা.-এর দুধ চাচা) একবার আমার নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। আমি অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানালাম। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে আসার পর তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। তিনি আমাকে অনুমতি প্রদানের আদেশ করলেন।
মুসলিমের রেওয়ায়েত অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তার সাথে পর্দা করো না। কেননা, বংশীয় সম্পর্কের দ্বারা যা হারাম হয়, দুধ সম্পর্ক দ্বারাও তা হারাম হয়।
-সহীহ বুখারী ৮/৩৯২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৪৪; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১১৪৭; সুনানে নাসায়ী ৬/৯৯

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম

মাহরাম সাব্যস্ত হওয়ার তৃতীয় কারণ হল বিবাহ। বৈবাহিক সম্পর্কের দ্বারাও নারী-পুরুষ একে অপরের মাহরাম সাব্যস্ত হয়। নারীর বিবাহ সম্পর্কীয় মাহরাম পুরুষ হল স্বামীর পিতা (শ্বশুর), স্বামীর অন্য পক্ষের পুত্র ইত্যাদি। তেমনিভাবে নিজের শাশুড়ি, স্ত্রীর গর্ভজাত অন্য পক্ষের কন্যা ইত্যাদি নারীও পুরুষের জন্য মাহরাম গণ্য হবে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وحرمت عليكم امهتكم … وامهت نسائكم وربآئبكم التى فى حجوركم من نسائكم التى دخلتم بهن …
(তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, … শাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের সাথে সংগত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসে তার গর্ভজাত কন্যা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে আছে।… (সূরা নিসা : ২৩)

ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ কুরতুবী রাহ. বলেন-বিবাহ সম্পর্কীয় মাহরাম নারী চার প্রকার : ১. স্ত্রীর মা (শাশুড়ি) ২. স্ত্রীর কন্যা ৩. পিতার স্ত্রী (সহোদর মা, সৎ মা) ও ৪. পুত্রবধু। (তাফসীরে কুরতুবী ২/৭৪)

উল্লেখ্য, শাশুড়ি বলতে স্ত্রীর মা, দাদী-নানী এভাবে উপরের দিকের সকলকে বোঝাবে। তবে স্ত্রীর খালা, ফুফু অর্থাৎ খালা শাশুড়ি, ফুফু-শাশুড়ি মাহরাম নয়। এঁদের সাথে পর্দা আছে। একই কথা নারীর ক্ষেত্রে। স্বামীর পিতা, দাদা ও নানার সাথে পর্দা নেই। তবে স্বামীর চাচা, মামা অর্থাৎ চাচা-শ্বশুর, মামা-শ্বশুরের সাথে পর্দা আছে।

উপরের আলোচনা থেকে পর্দার বিধান পালন সম্পর্কে আমরা যা পেয়েছি তা হচ্ছে-

এক. পর্দার বিধান পালন করার অর্থ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ পালন করা, যা মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ-
وما كان لمؤمن ولا مؤمنة اذا قضى الله ورسوله امرا ان يكون لهم الخيرة من امرهم ومن يعص الله ورسوله فقد ضل ضلالا بعيدا.
(তরজমা) আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অবকাশ থাকবে না। কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে স্পষ্টতই পথভ্রষ্ট হবে। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৩৬)

দুই. পর্দার বিধান মেনে চলা হচ্ছে ঈমানের দাবি। কেননা আল্লাহ তাআলা পর্দা-বিধানের ক্ষেত্রে শুধু ঈমানদার নারীপুরুষকেই সম্বোধন করেছেন।

তামীম গোত্রের কয়েকজন নারী উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর নিকট আগমন করল, যাদের পরনে ছিল পাতলা কাপড়। উম্মুল মুমিনীন তাদেরকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘তোমরা যদি মুমিন নারী হও তাহলে এ তো মুমিন নারীর পোশাক নয়। আর যদি মুমিন না হও তাহলে তা ব্যবহার করতে পার।’ (মাআলিমুস সুনান ৪/৩৭৬)

এক নববধুকে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর নিকট আনা হল, যার পরনে ছিল রঙ্গিন কিবতী চাদর। তখন উম্মুল মুমিনীন রা. বললেন, ‘যে নারী এ রকম পোশাক পরিধান করে তার তো সূরা নূরের প্রতি ঈমান নেই।’ (তাফসীরে কুরতুবী ১৪/২৪৪)

তিন. পর্দাপালন হল সতর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক লাজুক ও পর্দাশীল। তিনি লজ্জা ও পর্দাকে পছন্দ করেন।
(আবু দাউদ, হাদীস : ৪০১২, ৪০১৩; সুনানে নাসাঈ ১/২০০; মুসনাদে আহমদ ৪/২২৪

আল্লাহ তাআলা পিতা আদম ও হওয়া আ.-এর প্রতি পর্দার নেয়ামতকে বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন-
ان لك الا تجوع فيها ولاتعرى
(তরজমা) তোমার জন্য এ-ই রইল যে, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হবে না এবং নগ্নও হবে না।-সূরা ত্বহা (২০) : ১১৮)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন-
يبنى ءادم قد انزلنا عليكم لباسا يورى سوءتكم وريشا ولباس التقوى ذلك خير.
(তরজমা) হে বনী আদম! তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার ও বেশ-ভূষার জন্য আমি তোমাদেরকে পরিচ্ছদ দিয়েছি এবং তাকওয়ার পরিচ্ছদ এটাই সর্বোৎকৃষ্ট।- সূরা আ’রাফ (৭) : ২৬)

চার. পর্দা হল নারী-পুরুষ উভয়ের হৃদয়ের পবিত্রতার উপায়। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তা ঘোষণা করেছেন।

পাঁচ. পর্দা হল ইফফাত তথা চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উপায়। এই ইফফত ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআর অংশ। তিনি দুআ করতেন-
أسألك الهدى والتقى والعفة

অন্য রেওয়ায়েতে
إني أسألك الهدى والتقى والعفاف
অর্থ : (হে আল্লাহ!) আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি হেদায়েত, তাকওয়া ও ইফফত (চারিত্রিক পবিত্রতা)।
-সহীহ মুসলিম (কিতাবুয যিকর; জামে তিরমিযী (দাওয়াত অধ্যায়); ইবনে মাজাহ (দুআ অধ্যায়); মুসনাদে আহমদ ১/৪১১, ৪১৬ ও ৪৩৬

এই পবিত্রতা হচ্ছে জান্নাতী নারীদের একটি গুণ। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন আয়াতে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

আল্লাহ তাআলা তাদের অসাধারণ রূপের বর্ণনা দেওয়ার সাথে সাথে একথাও বলেছেন যে, তারা নির্ধারিত গৃহে অবস্থান করবে এবং নিজ স্বামী ছাড়া অন্যের দিকে দৃষ্টিপাত করবে না। তো তাদের সৌন্দর্যের পাশপাশি তাদের পবিত্রতারও প্রশংসা করেছেন। সুতরাং রূপ-সৌন্দর্যের সাথে যদি ইফফাত ও সতীত্ব থাকে তবে এরচেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে?!! আর পর্দাই হল সতীত্ব রক্ষার উপায়।

আল্লাহ আমাদেরকে পর্দার বিধান মেনে চলার তাওফিক দিক।আমিন।